হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, পবিত্র মহররম উপলক্ষে আঞ্জুমান-এ-পাঞ্জাতানী ট্রাষ্ট (বাংলাদেশ) আয়োজিত ১০ দিন ব্যাপী শোক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রায় চৌদ্দশ’ বছর আগের এই দিনে ইরাকের কারবালায় বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (স.)’র প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (আ.) ও তাঁর ৭২ জন সঙ্গী-সাথী সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ১লা হতে ১০ই মহররম পর্যন্ত শোক আলোচনা করবেন ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহীম খলিল রাজাভী।
গত ৪র্থ মহররম ১৯ জুন ২০২৬ বাদ মাগরিব এ মজলিসের সূচনা হয় মার্সিয়া মাধ্যমে। ৪র্থ মহররমে শোক মজলিসে বক্তব্য রাখেন ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহীম খলিল রাজাভী।
তিনি বলেন, দ্বীনকে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামত হিসাবে আমাদেরকে দান করেছেন যে দ্বীন আমাদেরকে শ্রেষ্ঠ জীবন উপহার দিবে। যেটা যতক্ষণ পর্যন্ত সম্ভব না ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর পক্ষ থেকে যাদেরকে নির্বাচিত করা হয়েছে, যাদেরকে সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করতে বলা হয়েছে যতক্ষণ পর্যন্ত মূল্যায়ন করতে পারবো না ততক্ষণ পর্যন্ত ইসলামের এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশ, শ্রেষ্ঠতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা হওয়া সম্ভব নয়।
হযরত আলী (আ.) সাহাবী হযরত মিসামে আম্মারকে বললেন, তোমাকে খেজুর গাছে হাত বাধা অবস্থায় ফাসি দেওয়া হবে। অবশেষে তোমার জিহ্বা কেটে দেওয়া হবে। তখন মিসামে আম্মার কাদলেন। তখন হযরত আলী (আ.) বললেন মিসাম তুমি কাদছো কেন? তখন মিসাম বললেন, আমার জিহ্বা কাটার কারণে আমি জিকির-এ-আহলে বায়েত করতে পারবো না এই কথা বলে কাদতে লাগলেন।
কারবালার ময়দানে ইমাম হোসাইন (আ.)-এর পরিবারকে পানি পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। এই চরম নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে এবং ইমামের মহান আত্মত্যাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি আধ্যাত্মিক মাধ্যম হলো এই আজাদারী। এই শোকসভার আয়োজনে মুসলমানদের স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণ ইমাম হোসাইন (আ.)-এর প্রতি আজাদারী শিক্ষার বহিঃপ্রকাশ।
মজলিসের শেষে মাতম, যিয়ারতে আশুরা, দোয়া-এ-ইমাম জামান (আ.) এবং তাবারুক বিতরণের মাধ্যমে শোক অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
আপনার কমেন্ট